CSE এবং ক্যারিয়ার ভাবনা

This is a post for Undergraduate CSE students!

আপনি CSE-তে পড়ছেন তাহলে অবশ্যই ভাবছেন আপনার ক্যারিয়ার কোনদিকে গড়বেন, আপনার অপশনগুলো কি কি হতে পারে বা আপনার কোন দিকে যাওয়া উচিত। এসব ভেবে থাকলে এই পোস্টটি আপনার জন্যই।

প্রথমত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা আমাদের ইন্টারেস্ট এর দিকে গুরুত্ব না দিয়ে আমরা দেখি জব সেক্টরে এই সাব্জেক্টের ডিমান্ড কেমন। আর একটা ধারনা আমাদের আছে যে কোন ডিমান্ডেবল সাবজেক্ট নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করলেই আমার জন্য অপেক্ষা করছে খুব ভাল চাকরি। কিন্ত বাস্তবিক ক্ষেত্রে তা হয় না। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি একটা ক্লাসে যদি ১০০ জন CSE স্টুডেন্ট থাকে তবে তার মাত্র ২০%-৩০% সাবজেক্টে ইন্টারেস্ট থাকার কারনে পড়েন আর বাকিদের কেউ পরিবারের ইচ্ছায় কিংবা কেউ জব মার্কেট ডিমান্ড এর জন্য (প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলোর ক্ষেত্রে)। আর এর জন্য গ্র্যাজুয়েশনের পরে অনেককেই জব মার্কেটে ধুকতে হয়। আপনার জব মার্কেটের ডিমান্ড দেখতে হবে অবশ্যই কারন দিনশেষে আপনি টাকা ইনকামের জন্যই এতসব করছেন তবে আপনার ইন্টারেস্ট থাকাটা অতীব জরুরি।

এখন আসি আপনি CSE-পড়ে কোন কোন সেক্টরগুলোতে যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে আমাকে বলতেই হবে যে CSE-এর সেক্টর অনেক বেশি। এদিক থেকেও আমাদের দেশে কিছু ভুল ধারনা আছে যা আমাদের শিক্ষকরা দিয়ে থাকেন তা হল, আপনি CSE পড়ছেন তাই অবশ্যই আপনার কম্পিটিটিভ প্রোগ্রমিং করতে হবে বা পারতে হবে অন্যথায় আপনার কোন গতি নেই। কোন কোন টিচারকে বলতে শুনেছি যে আপনি যেহেতু CSE-তে পড়ছেন তাই মরলে পরে কবরে যেয়েও আপনার প্রোগ্রামিং করতে হবে। আর এসব শুনে প্রোগ্রামিং এ কম পারা ছেলেটা বা তেমন কিছুই না বোঝা ছেলেটা টেনশন/ডিপ্রেশন/ফ্রাস্ট্রেশনে পরে যায় আর ভাবে CSE পড়তে এসে নিজের ক্যারিয়ারটাই শেষ করে ফেললাম, আমাকে দিয়ে আর কিছু হবেনা। আসলে CSE-তে ক্যারিয়ার গড়তে হলে প্রোগ্রামিং দরকার আছে তবে কম পারলে বা না পারলেও অনেক অপশন আপনি পাবেন ক্যারিয়ারের জন্য তাই হতাশ হবার কোন দরকার নেই।নিচে আমি মেইন মেইন কিছু ক্যারিয়ার তুলে ধরছি যেগুলো আপনি একজন CSE স্টুডেন্ট হিসেবে বেছে নিতে পারেন-

*Developer

বেশিরভাগ CSE স্টুডেন্ট এরই ধারনা আছে ডেভেলপিং সেক্টরটির ব্যাপারে। অনেকে আবার মনে করেন CSE মানেই ডেভেলপমেন্ট, অন্য কিছুই নেই। আসলে ব্যাপারটা তেমন নয়। যাইহোক আপনি একজন কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামার যদি হয়ে থাকেন তাহলে ডেভেলপার সেক্টরটি-ই আপনার জন্য বেষ্ট অপশন হবে। অথবা আপনি মাঝারি মানের প্রোগ্রামার হলেও এই সেক্টরটিতে ভাল করতে পারবেন বা ইন্টারেস্ট পাবেন বা ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। নির্দিষ্ট কিছু ডেভেলপমেন্টের জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজে পারদর্শি হতে হবে।

  • Software Development
  • Game Development
  • Android Development
  • Web Development

এই চারটি উল্লেখযোগ্য ডেভেলপমেন্টের মধ্যে আপনি আপনার ইন্টারেস্ট অনুযায়ী যেকোন একদিকে অগ্রসর হতে পারেন।

*IT/Networking

এই সেক্টরটি ওয়ান অব দ্য মোস্ট ডিমান্ডেবল, ভাস্ট এবং চ্যালেঞ্জিং সেক্টর। আপনি প্রোগ্রামিং এ দুর্বল হলে এই সেক্টরটি বেছে নিতে পারেন তবে অ্যাডভান্স লেভেলে গেলে আপনার অবশ্যই কিছু প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজে পারদর্শিতা ও ডেভেলপমেন্ট নলেজ থাকতে হবে বা দরকার পড়বে। বর্তমান বিশ্বের ওয়ান অব দ্য মোস্ট ডিমান্ডেবল সাবজেক্ট Cyber Security এই সেক্টরটিরই অন্তর্গত।

  • IT consultant, Specialist
  • Network Engineer
  • Cyber Security specialists

প্রথমেই বলেছি এইটা অনেক ভাস্ট একটা সেক্টর। হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, নেটোয়ার্কিং ইকুইপমেন্টস, ডিভাইস, অপারেটিং সিস্টেম সার্ভার, ক্লাউড এসব কিছু এই সেক্টরের অতর্গত। IT এবং Networking প্রায় কাছাকাছি তবে সামান্য কিছু ভিন্নতা রয়েছে। Cyber Security-তে যাবার জন্য প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, সার্ভার এডমিনিস্ট্রেশন সহ বেশ কিছু বিষয়ে পারদর্শিতার প্রয়োজন রয়েছে।

*Database

আপনি ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে গেলে খুব ভালভাবেই ডাটাবেজের সাথে পরিচিতি লাভ করবেন কিন্তু শুধুমাত্র ডাটাবেজে এক্সপার্ট হয়েই আপনি অনেক ভাল কিছু করতে পারেন আর জব মার্কেটেও হিউজ ডিম্যান্ড রয়েছে এর।

  • Database specialist
  • Cloud Database
  • Database Security etc.

*Animation

এখনো Animation সেক্টরে যোগ্য বা পারদর্শী লোকের বড় রকমের ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশে হাতে গোনা কজন মাত্র কিন্ত যারাই এই সেক্টরে পারদর্শিতার সাথে এগিয়েছেন প্রত্যেকেই অনেক বড় যায়গায় গিয়েছেন। বর্তমানে Animation এর চাহিদা আর সব উন্নত দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও যেভাবে বেড়ে চলছে তাতে নিঃসন্দেহে আপনি বড় কিছুর স্বপ্ন দেখতেই পারেন।কোডিং দক্ষতার প্রয়োজন নেই

*Graphics

অনেকে গ্রাফিক্স কে ছোট করে দেখলেও এটি মোটেও ছোট করে দেখার বিষয় নয়। আপনি একজন এক্সপার্ট গ্রাফিক্স ডিজাইনার হয়ে আপনার ক্যারিয়ার অনেক দূর নিয়ে যেতে পারেন। একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের সাপ্তাহিক আয় আপনাকে বিস্মিত করতে পারে।এটির ক্ষেত্রেও কোডিং দক্ষতা ছাড়াই আপনি সর্বোচ্চ কিছু করতে পারেন।

*Teacher/Trainer

যদি টিচিং প্রফেশন আপনার ভাল লেগে থাকে তাহলে আপনি এই সেক্টরটি আপনার ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পারেন। তবে টিচিং প্রফেশনের জন্য সিজিপিএ-টা ভাল করার একটা আবশ্যকতা রয়েছে।

*Entrepreneur

যদি জব আপনার ভাল লেগে না থাকে আর নিজের অধিনেই কিছু করার ইচ্ছা থাকে কিংবা আপনার একটা গ্রুপ অব পিপল থাকে যাদের নিয়ে আপনি কিছু দ্বাড় করাতে পারবেন তাহলে আপনি সেটাও করতে পারেন। বেশিরভাগ CSE গ্র্যাজুয়েট Entrepreneur-ই মূলত সফটওয়্যার ফার্ম দিয়ে থাকেন। এটি ছাড়াও আপনি CSE-এর জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ব্যবসা থেকে শুরু করে ছোট-বড় অনেক কিছু করতে পারেন তবে এক্ষেত্রে আপনার অবশ্যই প্রপার প্ল্যানিং করে এগুতে হবে।

এসব ছাড়াও আরো অনেক সেক্টর রয়েছে CSE-তে career গড়বার জন্য তবে উল্লেখিতগুলোই উল্লেখযোগ্য। সংক্ষিপ্ত আকারে যতটুকু বলা যায় বলবার চেষ্টা করেছি আর স্যালারি কেমন হতে পারে একজন ফ্রেশার গ্র্যাজুয়েট হিসেবে সেসব আলোকপাত এখানে করা হয়নি। বাংলাদেশ এবং বিশ্বের জব মার্কেটে এসব হিউজ ডিমান্ডেবল সেক্টর। আসল কথা হল আপনি যে সেক্টরটিতেই যান না কেন আপনার সেটাতে দক্ষতা থাকতে হবে। আপনার দক্ষতাই আপনাকে আপনার ক্যারিয়ারে সফলতা দিবে এমনকি আপনার ভীষন খারাপ CGPA-ও দক্ষতার আড়ালে মলিন হয়ে যাবে। অন্যদিকে আপনি আপনার CGPA-এর দিকে শুধু নজর দিতে যেয়ে কোন পার্টিকুলার বিষয়ে দক্ষতা অর্জন না করে থাকেন তাহলেও আফসোস করতে হবে।কোন সেক্টরে যাবার জন্য কিভাবে শুরু করার প্রয়োজন তা এখানে বলা হয়নি। নিজ নিজ আগ্রহের উপরে ভিত্তি করে রিসার্চ শুরু করুন আর নিজ নিজ ডিপার্মেন্টের বড় ভাই বা শিক্ষকরা আপনাদের সাহায্যের জন্য ত আছেনই। আর এছাড়াও আপনার আশেপাশেও অনেক হিতাকাঙ্ক্ষী আছেন আপনাকে সাহায্য করবার জন্য শুধু একটু খোঁজ করুন।

ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করবেন এবং কোন জিজ্ঞাসা থাকলে অবশ্যই কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।

ধন্যবাদ।

CSE এবং ক্যারিয়ার ভাবনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to top